শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

মনের মানুষ


(বিধিসন্মত সতর্কীকরন – এ লেখায় প্রচুর ঘ্যানঘ্যানে জ্ঞানের কথা আছে। পাঠক নিজে ভালমন্দ বুঝে তবেই পড়বেন)

অক্ষয় লাহা আর অনিমেষ পোদ্দার কারবারি মানুষ, কিন্তু একে অপরের বন্ধুও বটেন। খালাসীটোলায় দিশীর আড্ডায় একসঙ্গে যাওয়া, এক সঙ্গে একই বাঈজির নাচের ভক্ত হয়ে পড়া থেকে এক সঙ্গে গ্রামাফোন কেনা অবধি। কিন্তু দুজনের আত্মসন্মান এবং অহংবোধ প্রখর, কেউ কারোর চেয়ে কম যান না। সেদিন বিকেলে প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে বেঞ্চিতে বসে হাওয়া খেতে খেতে তেনারা সময় কাটাচ্ছেন, একটু পরে খালাসিটোলায় দুপাত্তর চড়িয়ে জোড়াসাঁকোর ওদিকে ইমনজানের গান শুনতে যাওয়ার কথা।

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

স্যাটেলাইট

- কিন্তু স্যার শুধু নাম দেখেই আমাকে নাকচ করাটা কি ঠিক?

- “নিবারন পোল্ল্যে” নাম নিয়ে অরনী সেনের সহকারী? তার ওপর…… তার ওপর আয়নায় নিজেকে…

- আজ্ঞে আমি তো স্যার সহকারী হবো। টাক, ঝুপো গোঁফ, পায়ে চটি, ৫৮ বছর বয়স, এসব নিয়ে তো আগেও …

মিস্টার ইন্ডিয়া

- আপনার কথা কাটছে, সিগনাল ভাল এমন জায়গা থেকে ফোন করুন
- একটু লুকিয়ে কথা বলতে হচ্ছে ভাই...... এমন একটা কাজ...
- সেটা আপনার কাছে, আমার কাছে এটাই কাজ, প্রোফেশন
- যাই হোক, তা ভাই কাজটা হয়ে যাবে তো? হারামজাদা বিজনেস পার্টনার গুপ্তা...ওর শেষ আমি...
- সুপারি দিয়েছেন, কাজ পাক্কা

চতুর্থ

সকালে জল আনতে গিয়েই দেখেছিল গায়াম, নদীর অন্যদিকে ঘাসজমি কেমন যেন লন্ডভন্ড হয়ে আছে। বহু পায়ের ছাপ এসে মিশেছে জলের সঙ্গে। অনেক মানুষ হেঁটে গেলে যেমন হয়। কত মানুষ হতে পারে? পাঁচ? সাত? কুড়ি? তার ওপরে তো গুনতেই পারেনা গায়াম, তার বাবা হয়ত পারতে পারে। বাপের কথা মনে হতেই জল আনার লাউয়ের খোলা নদীর ধারে ফেলে রেখেই দৌড়লো গায়াম। বেঁকে যাওয়া পায়ের জন্যে দৌড়তে অসুবিধে হয়, তবুও তাদের বসতির মধ্যে যারা দৌড়তে পারে তাদের মধ্যে গায়াম অন্যতম। অনেকের দেহই আজন্ম আরো বিকৃত, অক্ষমতা জন্মাবধি।

সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮

ওরা

- ওরা যে কি হারে সংখ্যায় বাড়ছে বাবা... ভাবা যায় না ...
- কে আবার বাড়লো এই সাত সকালে? পোকা? আরশুলো?
- উফ্ , তোমাদের মত লোকের ইগনোরেন্সেই এই হাল হয়েছে
- আমি? আমি আবার কি করলুম রে? আমি তো কাগজ পড়ছি
- ধুত , ওই কাগজই পড়ো আর চা খাও। অবসর জীবন......

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা

[২০১০ সালের ঘটনা। লেখাও তার কিছুদিন পরেই। হারিয়ে ফেলেছিলাম লেখাটা কোথাও। এতকাল পরে খুঁজে পেয়ে সামান্য কিছু পরিমার্জন করে তুলে দিলাম]

আমাদের ইশকুলে কিছু ডক্টর জেকিল মাস্টারমশায় পরীক্ষার আগুপিছু মিস্টার হাইড হয়ে যেতেন। সে আমলে বছরে পরীক্ষা দিতে হতো মোটে দু বার, আর ওই দুই পরীক্ষার আগুপিছু দিন কুড়ি-পঁচিশ করে “মন দিয়ে” পড়তে বসা, এবং পরীক্ষায় টেনেটুনে, মিস্টার হাইডদের নাগাল এড়িয়ে “সিলিপ কেটে” পরের ক্লাশে উঠে যাওয়া। এই করে ইশকুল জীবন শেষ হলো।

মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০১৭

পত্রলেখার লেখা

বিষন্ন সন্ধ্যের মুখ। শহরতলীর কিঞ্চিত হাত পা ছড়ানো সুখী গৃহকোন। আজ তার ১৩ বছরের জন্মদিন। 
-  এটা কি?
-  খুলেই দেখ 
-  বাবা… তুমি এটা কি দিলে আমাকে জন্মদিনে?
-  খুব ভাল বই রে মা, পড়িস একটু , সত্যি ভাল লাগবে 
-  তুমি খুব ভাল করে জানো আমি বই পড়িনা, আমার এসব ভাল লাগে না বাবা
-  কিন্তু … তুই 

সোমবার, ২০ মার্চ, ২০১৭

বিরিয়ানি এ অওধ

মুঘলিয়া সলতানতের সূ্য্যি তখন পাটে ঢলতে বসেছে। “মারাঠা দস্যু” হানা দিচ্ছে রাজপুতানা থেকে মেদিনীপুর। গোটা দেশের “ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা”। ওদিকে মহাকাল শ্বেতবর্ন ধারন করে বনিকের মানদন্ড হাতে কলকাতা , মাদ্রাজ, বোম্বাই সহ ইতিউতি হানা দিচ্ছেন, শর্বরী তখনো পোহায়নি। ঠিক এই সময় উত্তর ভারতের অরাজকতার অন্ধকারে ঝলমল করে উঠলো লখনৌ নগরী আর সুবা অওধ। রামচন্দ্রের আশীর্বাদধন্য আযোধ্যা যা কিনা অষ্টাদশ শতকের হিন্দুস্তানিতে অওধ। এসব নিয়ে কইতে বসিনি অবশ্য। আমি খানেওয়ালা আদমী। সিয়াসতি  বদবু (রাজনীতির দুর্গন্ধ) থেকে দূরে থাকাই ভাল।

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭

ঝগড়া

- আর ঝগড়া করবি?
- ঝগড়া আমি করলাম? এত বড় মিথ্যে আমার ওপর চাপালি? বাজে ছেলে, মিথ্যেবাদী তুই , প্রবঞ্চক , ঠগ্‌ …… ইয়ে
- তোর আর আমার তফাত কোথায় জানিস? রেগে গেলে তোর ভাষাটা বড্ড শুদ্ধ হয়ে যায় আর আমার টা……
- ভাল হচ্ছেনা কিন্তু, প্রচন্ড মাথা গরম হয়ে আছে, হাত চলে যাবে
- আমার ও পা চলবে তাহলে?
- কি? কি? তুই আমাকে ……

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

ভাল

- বাপুজির টিফিনকেকের ওপর চার চামচ পোর্ট ওয়াইন ঢেলে খেয়ে দেখেছিস? অমৃত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রস
- রস? রসের নামে ছাইপাঁশ খাবেন কেন স্যার?
- কেন রে? তুই বুঝি এসব চাখিসনি! ন্যাকামো হচ্ছে? মেয়ে বলে তুই এক্কেরে লবঙ্গলতিকা?
- নামানে সেরকম ঠিক….
- সত্যি করে বল দিকি

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১৬

পাঞ্জাবী

পেশাওয়ার ইস্টিশনে একগাদা বাঙালি রেলগাড়ি থেকে নামেনা। তাই আলী সায়েব যখন পেশাওয়ারে নামলেন গাড়ি থেকে, খেয়াল পড়ল তিনি পাঞ্জাবী পরে আসেননি। কাজেই তাঁকে নিতে আসা, পাঠান বন্ধুর-বন্ধু (কিম্বা বন্ধুর-বন্ধুর-বন্ধুর-বন্ধু। খাঁটি পাঠান বন্ধুর সম্পক্কে বন্ধুর পন্থায় বিশ্বাস করেনা বলেই লিখেছেন আলী সায়েব) তাঁকে চিনবেন কি করে, তাই নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। সেই দুশ্চিন্তার কথা শুনে পাঠান তাজ্জব – “পাঞ্জাবী দিয়ে বাঙালি চেনা যায়?” - আজ্ঞে ১৯২৭ সালের কথা কইচি। এখন হিন্দি-পাকি দুশমনিতে নিরুপায় হয়ে বাঙালি রেলগাড়ি চেপে পেশাওয়ার যেতে পারেনা। কিন্তু ৮০-৯০ বছর আগে পেটের টানে সেই নিরুপায় হয়েই আবার বাঙালি রেলগাড়ি চেপে পেশাওয়ার যেত। আলী সায়েব বলে গেছেন যে।

আর জন্মের দুষ্টু লোক

- সবার আগে আপনার যেটা দরকার মেজর মিত্র, সেটা হলো রেস্ট, কেননা আপনার এই হ্যালুসিনেশন বলুন, স্বপ্ন বলুন এগুলো যদি বাড়তে থাকে তাহলে ইট উইল আ্যাফেক্ট ইয়োর...
- হার্ট। জানি ডক্টর। কিন্তু এই মুহুর্তে আমাকে হার্ট স্পেশালিস্টের চেয়ে অনেক বেশী সাহায্য করতে পারেন একজন সাইক্রিয়াট্রিস্ট, তাই আপনার কাছে...
- দেখুন মেজর, এই যে ছবিতে এই জায়গাটা দেখছেন, এটাকে বলে হিপ্পোক্যাম্পালজাইরাস, এটা আমাদের মেমরি সেন্টর..

বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

পাহাড় ও সমুদ্র

- না শুভেন্দু, কখনোই নয়। সমুদ্র বড় একঘেঁয়ে, এক বেলার পর থেকেই আর কিছু.....
- কল্পনা কল্পনা, সমুদ্র কল্পনাকে উসকে দেয় মিত্রা, তুমি ভেবে দেখ, উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ অনেক বেশী আবেগ ও কল্পনাপ্রবন।
- আর পাহাড়ের মানুষ? অন্তর্মূখি, কষ্টসহিষ্ণু, হাসি মুখ
- না মিত্রা, সমুদ্রই হোক এ যাত্রা। পাহাড় তো অনেক হয়েছে। আর কেমন জানি সব পাহাড়ই আমার....
- এক লাগে? মন চাই বুঝলেমন। এই এত গুলো বছর সংসার করেও মনের নাগাল পাইনা তোমারনিজের কাজ আর জগৎ নিয়েই......

দুই বাবা

- বাবা
- উঁ ?
- ওই পাঁচিলের ওপাশে কি আছে বাবা? ওই যে দূরে, বিরাট উঁচু, মেঘ ছোঁয়া পাঁচিল...
- কিচ্ছুটি নেই
- কিচ্ছু নেই? কেউ নেই?
- নাঃ , সব খালি
- তার পর? খালির পর?

রাতভোর

- আপনি গাঁজা খান স্যার?
-
কেন তোর আপত্তি আছে?
- না স্যার, আমার আর আপত্তি থাকার কি আছে? তবে বড় বিচ্ছিরি গন্ধ
- তুই আমার ছাত্রী, তোর বলার একটা রাইট তো আছেই তবে সে সময় এখন নয়
- বকলেন?
- মোটেই না রাত ১২ টার পর ছাত্রীদের বকতে নেই
- খিক খিক …… আপনার নেশা হয়েছে

রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬

ম্যাজিক

হাজার ওয়াটের আলো জ্বাললেও হয়এ ঘরের সব কটা কোনায় জমে থাকা অন্ধকার পুরো দূর করতে পারবে না। একদিন ছিল, যখন কলকাতা শহরে বিজলী বাতির আসার আগে এ ঘরে সন্ধ্যের পর জ্বলে উঠত গ্যাসের আলো, কিম্বা তারও আগে মোমের কিম্বা খুব দামি কারুকাজ করা লন্ঠনের ঝাড়। আর সেই আলোতেই ঝলমল করে উঠত এই ঘর, ঘরের বাইরে টানা বারান্দা, দালান, সদর দরজা লোক জন , হই হট্টগোল সব মিলিয়ে একেবারে জমজমাট অন্ধকারের চিহ্ণ খুঁজে পাওয়া যেতনা কোথাও। ঠিক কবে থেকে যে বাড়িটা খালি হতে শুরু করল কে জানে

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

সেবার শীতকালে

আমার আবার বরাবরের গরম গরম বাতিক ছিল একটু গরম হলেই ছাওয়া চাই, হাওয়া চাই। হাঁসফাঁস অবস্থা। কিন্তু কি জানি কেন, বয়স বাড়ছে বলেই বোধহয়, আজকাল আর তেমন গরম করেনা। বরং শীতের কাঁপুনি প্রতি বছর একটু একটু করে বেড়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে হাতকাটা সোয়েটার পরতুম, এখন সেখান টুপি আর জ্যাকেট চাপাই। সারা রাত গায়ে কম্বল নিয়ে ঘুমোতে পারি, যেটা আগে পারতুম না এবার শীত অবিশ্যি কমসমের ওপর দিয়েই গেল। কদিন হলো “বসন্ত এসে গেছে” বলে ফোনে অনেক মেসেজ আর ছবিও পেয়ে চলেছি। তবে আমাদের এখানের শীত আর কতটুকু? যেতে হয় দার্জিলিং কি সিমলা। শীত বলে শীত? বাপরে! হাড়ের ভেতর মজ্জা পর্যন্ত জমিয়ে দেয়। আমার বাঙালি ধাতে এর চেয়ে বেশী ঠান্ডা কল্পনা করা অসম্ভব। তাই ভাবি, যেখানে শূন্যের নিচে ৩৫-৪০ ডিগ্রি নেমে যায় থার্মোমিটারের পারা, সেখানে কেমন পারা অনুভুতি হয়!

শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

পেট্রোল

এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা বড় বড় পাথরের টুকরোর আড়ালে দু চার জন করে সৈনিক বসে আছে চারিদিকে চোখ ধাঁধানো সাদা। বরফের পুরু আস্তরন সব কিছুর ওপর। এই ধপধপে সাদার ওপর সূর্‍্যের রোদ পড়লে সেদিকে খালি চোখে তাকানো মুশকিল। তাই সব ফৌজির মুখেই, কপাল থেকে গাল পর্যন্ত বিশাল বড় আর  মোটা কালো চশমায় ঢাকা। একে সকলেই সাদা হাই অল্টিচিউড ফৌজি উর্দী পরে আছে। মাইনাস চল্লিস কি পঞ্চাশ ডিগ্রিতে দাড়ি গোঁফ কামানোর প্রশ্নও ওঠেনা। তার ওপর মুখের আধখানা ঢাকা বিশেষ ভাবে তৈরি রোদ চশমায়। কাজেই সকলকেই কেমন এক রকম দেখতে লাগছে। তবুও ফৌজিরা নিজেদের চিনে নেয় কোনো ভাবে। ওই যে লোকটা একবালতি বরফ নিয়ে অল্প লেংচে লেংচে আসছে গরম করে খাবার জল তৈরি করবে বলে, ও হলো হাবিলদার রামদত। অনেক উঁচু থেকে দড়িতে ঝুলতে ঝুলতে পড়ে গিয়েছিল। সে আঘাত এখনো সারেনি হয়ত। তাই চলার সময় খুব ভাল করে নজর করলে ওকে হালকা ল্যাংচাতে দেখা যায়। সামনে প্যাকিং বাক্সর ওপর বসে থাকা লেফটেন্যান্ট চেঁচিয়ে রামদতকে চা চাপাতে বললেন। ইনিই বোধহয় এ চৌকির কম্যান্ডার। এ জায়গাটা বোধহয় পাকিস্তানি ফৌজের সরাসরি গুলির পাল্লার বাইরে। কারন এখানে লোকজন বাংকার বা পরিখার মধ্যে ঢুকে বসে নেই। বরং বেশ নিরাপদেই ঘুরছে। লেফটেন্যান্টের উর্দীতে নামের ট্যাগটা পড়া যাচ্ছে। রাজীব পান্ডে। আইডি আর ট্যাগ খুঁটিয়ে দেখে লেফটেন্যান্ট তাকালেন সামনের দিকে -

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৬

একবগ্‌গা

বাবুসোনা ইশকুলে রোজ মার খেতো। মার বলে মার? সাধু স্যারের খেজুর ছড়ির মার, হেডস্যারের ডাস্টারের বাড়ি, লক্ষিকান্ত স্যারের কানমোলা, এমনকি রামচন্দ্র স্যারের মত ভালমানুষ লোকের কাছেও চড়-থাপ্পড় জুটিয়ে নিত কিছুনা কিছু করে। কিন্তু এত মার পড়া সত্ত্বেও বাবুসোনা একটা দিনের জন্যেও বদমায়েশি বন্ধ করেনি। মার খেয়েও বসে পড়তনা, মার এড়াতে চেষ্টা করতনা। চোখে চোখ রেখে শাস্তি নিতো প্রতিবার। ক্লাস সিক্সে উঠে দুজনের আলাদা আলাদা ইশকুল হয়ে গেল। মাঝের ক বছর আর তার দেখা পাইনি। শেষে উচ্চমাধ্যমিকের সময় আবার দুজনে একই ইশকুলে একই ক্লাসে এসে বসলুম। তখন অবিশ্যি বয়স অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু কদিন যেতেই বুঝলুম, বাবুসোনা বদলায়নি। নিয়ম না মানায় সিদ্ধহস্ত বাবুসোনা নিয়ম করে কিছুনা কিছু করে বসত যাতে গোটা ইশকুলে হুলুস্থুলু । হাজার শাস্তি পেয়েও সে শুধরোয়নি। এরকম একবগগা ছেলে খুব কমই দেখেছি।  

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫

ইয়ের কথা


-   মানে আপনি বলছেন আপনি একজন সম্পূর্ন সুস্থ মানুষ?
-   আজ্ঞে ধর্মাবতার। আমি ডাক্তারের সার্টিফিকেটও দাখিল করেছি সেই দাবীর সপক্ষে
-   ধুর মশাই, সার্টিফিকেট জোগাড় করা কোনো ব্যাপার নাকি আজকের দিনে?
-   সত্যি বলছি ধর্মাবতার, আদালতে দাঁড়িয়ে আপনার এজলাসে গীতায় হাত রেখে বলছি এ সার্টিফিকেট জাল নয়। আর এই জাল জোচ্চুরির যুগে মানুষ খাঁটি কিনা যাচাই করে নেবার জন্যেই আমি.........