শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৯

বাগিনীর পিঠে

জলে আমার বিলক্ষন ভয়। জলে পড়লে এক্কেবারে পাথরবাটি। একমাত্র ভরসা ঘাড়ের ওপর ফাঁপা ব্রেনবাকসো। তাইতে ঘিলুর জায়গায় প্রভূতপরিমানে বায়ু ভর্তি করে দিয়েছিলেন সৃষ্টিকর্তা, ফলে সে খানা হয়ত রবারের টিউব বা লাইফ জ্যাকেট হয়ে আমাকে ভাসিয়ে রাখার একটা মরিয়া চেষ্টা করতে পারে। কাজেই নুলিয়া , মাঝি-মাল্লা, নিদেন পক্ষে সাঁতারজানা লোকজন আমার বড়ই পছন্দের। মানুষের সুবুদ্ধি হয়, কুবুদ্ধি হয়, আরো অনেক রকম বুদ্ধিই হয়ত হয়। কিন্তু আমি যে দলের মানুষ, সেখানে এসব হয় না। কারন সুবুদ্ধি বা কুবুদ্ধি যাই বলুন, সেটা হতে গেলে ঘটে সামান্য বুদ্ধির দরকার, সেখানেই তো বিশাল ঘাটতি। ভয় পেতে গেলে, আগে ভয়ের কারনটা ভেবে বের করতে হয়। যার এসবের বালাই নেই, সে নির্ভয়। তাই ২০১৭ সালের অক্টোবর নাগাদ যখন প্রথম কথাটা উঠলো, আমি দুম করে বলে দিলুম লোকজন হিমালয়ে গেলে আমি আছি। তা থাকতে আমার অসুবিধে নেই। আগেও থেকেছি অনেক। কিন্তু বলে ফেলার কদিন পর অনুর্ধ ১৭ বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম জার্মানির খেলা দেখতে গিয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে যুবভারতীর মাঝের টায়ারে উঠবার সময় সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে, আর প্রবল বেগে হাপরের মত হাঁপাতে হাঁপাতে খেয়াল হলো, কি নিদারুন বিপদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে গিয়ে ফেলতে চলেছি। খুলে কই।

শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯

রঙ

- পাজির পাঝাড়া ছেলে...  চ্যাংড়ামো হচ্ছে? য়্যাক চড়ে তোমার...
- তাই বলে দোলের দিন রঙ দেবো না?
- ও রে বদমাস... দোলের দিন রঙ দিতে ইচ্ছে? তা তোর বয়সি ছোঁড়ারা ওদিকে রঙ খেলছে ওদিকে গিয়ে খেলগে যা... এই নদীর ঘাটে.....
- কেন গো?  এখানে রঙ দেওয়া মানা বুঝি?
- ওরে তোর বাড়িতে কি মা বোন নেই? আমরা কি তোর সমবয়সি?  সম্পক্কে হয়ত মাসি...
- অতটাও নয়

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

পান্তা

- তাই বলে আপনি আমাকে এই ... এই ... চানাচুর, ছাতু, কাঁচা লংকা পেঁয়াজকুচি আর সরষের তেল দিয়ে মাখা পান্তা ভাত খেতে দেবেন?
- লেবুও দিয়েছি একটু... চিপে...
- তার মানে? 
- কি করব? আর কিছু পেলুম না যে...
- আপনি একটা জঘন্য। একটা একটা...

শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

ঢিলে ইস্ক্রুপ

- এই ভাবে কাস্টমার ঘোরাচ্ছ দিন দিন, বলি দাদু চক্ষুলজ্জা বলে কি  কিচ্ছুটি রাখোনি তোমার?
- দাঁড়াও বাবা দাঁড়াও। সবাই যদি ঘোড়ায় জিন দিয়ে আসো তাহলে আমি কি করে সামলাই? আমি কি যেমন তেমন করে কাজ....
- আহা সে কথা নয় গো ঠাকুদ্দা,  সে কথা নয়। তোমার হাতের তারই আলাদা, সেই জন্যেই না...
- ঠাকুদ্দা কি গো বিষ্টুবাবু !!  বলি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছো একবার? বলি মেঘে মেঘে তোমার কি কম হলো?

বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯

কাবাব রুটি ও পাহাড়ি চটির গপ্প

- যাব্বাবা, এ তো গলা ছিপি হয়ে যাবে গিলতে, রুটি গুলো হিমঠান্ডা, আর কাবাবও তথৈবচ
- কি করি বলুন তো? এই মাঝরাত্তিরে আমি কোত্থেকে পোলাও কালিয়া পাই?
- পোলাও কালিয়া কে চেয়েছে হে? এট্টু জল পেলেও ... শুকনো রুটি তো গিলতে পাচ্চিনা এই মাঝরাতে ...
- জল দিয়ে রুটি গিলবেন? এই ঠান্ডা পাহাড়ি দেশে যেখানে সেখানে জল খাওয়া কি ঠিক আপনার? আপনি শহুরে মানুষ...
- সে তোমাকে ভাবতে হবে না। কত ঘাটের জল খেয়ে হজম করে দিলুম
- সে করেছেন, বেশ করেছেন। এখন এখানে ওই নোংরা কুঁজোর জল খেয়ে যদি আপনার পেট খারাপ হয়, কলেরা হয় , তাহলে জবাবদিহি কে ...

শুক্রবার, ৪ জানুয়ারী, ২০১৯

শেষ বাদাম

- আপনি প্রেমে ল্যাং খেয়েছেন স্যার?
- খেয়েছি
- আপনাকে কে ল্যাং মারলো?
- তাতে তোর কি রে ডেঁপো মেয়ে? পড়াশোনা চুলোয় দিয়ে যত্ত সব..
- এতক্ষন তো পড়ালেন স্যার
- এবার বাড়ি যা দিকি, অনেক বেলা হলো, আমি রান্না চাপাই

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮

মধু চক্র

- দেখুন, খবর না পেয়ে তো আসিনি, কাজেই বাধা দিয়ে লাভ নেই। পুলিসকে পুলিসের কাজ করতে দিন। ঢুকতে দিন।
- কিন্তু খবরটা কি? ওয়ারেন্ট আছে?
- আছে। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন। আমরা জানতে পেরেছি এই বাড়িতে অসামাজিক কাজ হয়।
- অসামাজিক কাজ? কি বলছেন অফিসার? আমি রিটায়ার্ড মানুষ, বিপত্নিক। এই বাড়িতে ভাড়া.....
- ভাড়াই তো খাটাচ্ছেন। সেই তথ্যই আছে আমাদের কাছে।

জার্মান শেফার্ড

- মানে? আপনার স্বামী সব সময় ভাবেন উনি মানুষ নন?
- সব সময় ডক্টর সেন। উনি সব সময় মনে করেন উনি মানুষ নন, উনি....  উনি...
- উনি?
- উনি একটা জার্মান শেফার্ড
- জার্মান শেফার্ড? মানে অ্যালসেশিয়ান? কুকুর?
- ঠিক তাই।

চাঙ্গায়নী

- তাহলে ডক্টর এপিসাইলিস, আপনি বলছেন এটাই সেই সত্য, যা আমাদের স্থবীর মৃতপ্রায় গ্রহের মেলারিস জাতীকে বাঁচাতে পারে
- আমি নিশ্চিত ভাবে বলছি স্যার, গত ১টা বছর আমি ওই নীলচে সবুজ গ্রহে এমনি এমনি কাটিয়ে আসিনি
- কিন্তু আপনার রিপোর্টে তো লিখেছেন ওখানকার সবচেয়ে উন্নত জীবেরাও নাকি এখনো সেই ইলেকট্রনিক্স যুগেই পড়ে আছে
- ঠিকই স্যার, কিন্তু ভেবে দেখুন, ওদের হিসেবে মাত্র ১০ হাজার বছরে ওরা কি অভাবনিয় উন্নতি করতে পেরেছে, আর তার কারন, প্রতি হপ্তায় ওরা নতুন উদ্যম পায় বাঁচার। সাত দিনে একদিন ওরা ছুটি কাটায় ওখানে।

শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮

মনের মানুষ


(বিধিসন্মত সতর্কীকরন – এ লেখায় প্রচুর ঘ্যানঘ্যানে জ্ঞানের কথা আছে। পাঠক নিজে ভালমন্দ বুঝে তবেই পড়বেন)

অক্ষয় লাহা আর অনিমেষ পোদ্দার কারবারি মানুষ, কিন্তু একে অপরের বন্ধুও বটেন। খালাসীটোলায় দিশীর আড্ডায় একসঙ্গে যাওয়া, এক সঙ্গে একই বাঈজির নাচের ভক্ত হয়ে পড়া থেকে এক সঙ্গে গ্রামাফোন কেনা অবধি। কিন্তু দুজনের আত্মসন্মান এবং অহংবোধ প্রখর, কেউ কারোর চেয়ে কম যান না। সেদিন বিকেলে প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে বেঞ্চিতে বসে হাওয়া খেতে খেতে তেনারা সময় কাটাচ্ছেন, একটু পরে খালাসিটোলায় দুপাত্তর চড়িয়ে জোড়াসাঁকোর ওদিকে ইমনজানের গান শুনতে যাওয়ার কথা।

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

স্যাটেলাইট

- কিন্তু স্যার শুধু নাম দেখেই আমাকে নাকচ করাটা কি ঠিক?

- “নিবারন পোল্ল্যে” নাম নিয়ে অরনী সেনের সহকারী? তার ওপর…… তার ওপর আয়নায় নিজেকে…

- আজ্ঞে আমি তো স্যার সহকারী হবো। টাক, ঝুপো গোঁফ, পায়ে চটি, ৫৮ বছর বয়স, এসব নিয়ে তো আগেও …

মিস্টার ইন্ডিয়া

- আপনার কথা কাটছে, সিগনাল ভাল এমন জায়গা থেকে ফোন করুন
- একটু লুকিয়ে কথা বলতে হচ্ছে ভাই...... এমন একটা কাজ...
- সেটা আপনার কাছে, আমার কাছে এটাই কাজ, প্রোফেশন
- যাই হোক, তা ভাই কাজটা হয়ে যাবে তো? হারামজাদা বিজনেস পার্টনার গুপ্তা...ওর শেষ আমি...
- সুপারি দিয়েছেন, কাজ পাক্কা

চতুর্থ

সকালে জল আনতে গিয়েই দেখেছিল গায়াম, নদীর অন্যদিকে ঘাসজমি কেমন যেন লন্ডভন্ড হয়ে আছে। বহু পায়ের ছাপ এসে মিশেছে জলের সঙ্গে। অনেক মানুষ হেঁটে গেলে যেমন হয়। কত মানুষ হতে পারে? পাঁচ? সাত? কুড়ি? তার ওপরে তো গুনতেই পারেনা গায়াম, তার বাবা হয়ত পারতে পারে। বাপের কথা মনে হতেই জল আনার লাউয়ের খোলা নদীর ধারে ফেলে রেখেই দৌড়লো গায়াম। বেঁকে যাওয়া পায়ের জন্যে দৌড়তে অসুবিধে হয়, তবুও তাদের বসতির মধ্যে যারা দৌড়তে পারে তাদের মধ্যে গায়াম অন্যতম। অনেকের দেহই আজন্ম আরো বিকৃত, অক্ষমতা জন্মাবধি।

সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮

ওরা

- ওরা যে কি হারে সংখ্যায় বাড়ছে বাবা... ভাবা যায় না ...
- কে আবার বাড়লো এই সাত সকালে? পোকা? আরশুলো?
- উফ্ , তোমাদের মত লোকের ইগনোরেন্সেই এই হাল হয়েছে
- আমি? আমি আবার কি করলুম রে? আমি তো কাগজ পড়ছি
- ধুত , ওই কাগজই পড়ো আর চা খাও। অবসর জীবন......

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

তোমার ঘরে বসত করে কয় জনা

[২০১০ সালের ঘটনা। লেখাও তার কিছুদিন পরেই। হারিয়ে ফেলেছিলাম লেখাটা কোথাও। এতকাল পরে খুঁজে পেয়ে সামান্য কিছু পরিমার্জন করে তুলে দিলাম]

আমাদের ইশকুলে কিছু ডক্টর জেকিল মাস্টারমশায় পরীক্ষার আগুপিছু মিস্টার হাইড হয়ে যেতেন। সে আমলে বছরে পরীক্ষা দিতে হতো মোটে দু বার, আর ওই দুই পরীক্ষার আগুপিছু দিন কুড়ি-পঁচিশ করে “মন দিয়ে” পড়তে বসা, এবং পরীক্ষায় টেনেটুনে, মিস্টার হাইডদের নাগাল এড়িয়ে “সিলিপ কেটে” পরের ক্লাশে উঠে যাওয়া। এই করে ইশকুল জীবন শেষ হলো।

মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০১৭

পত্রলেখার লেখা

বিষন্ন সন্ধ্যের মুখ। শহরতলীর কিঞ্চিত হাত পা ছড়ানো সুখী গৃহকোন। আজ তার ১৩ বছরের জন্মদিন। 
-  এটা কি?
-  খুলেই দেখ 
-  বাবা… তুমি এটা কি দিলে আমাকে জন্মদিনে?
-  খুব ভাল বই রে মা, পড়িস একটু , সত্যি ভাল লাগবে 
-  তুমি খুব ভাল করে জানো আমি বই পড়িনা, আমার এসব ভাল লাগে না বাবা
-  কিন্তু … তুই 

সোমবার, ২০ মার্চ, ২০১৭

বিরিয়ানি এ অওধ

মুঘলিয়া সলতানতের সূ্য্যি তখন পাটে ঢলতে বসেছে। “মারাঠা দস্যু” হানা দিচ্ছে রাজপুতানা থেকে মেদিনীপুর। গোটা দেশের “ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা”। ওদিকে মহাকাল শ্বেতবর্ন ধারন করে বনিকের মানদন্ড হাতে কলকাতা , মাদ্রাজ, বোম্বাই সহ ইতিউতি হানা দিচ্ছেন, শর্বরী তখনো পোহায়নি। ঠিক এই সময় উত্তর ভারতের অরাজকতার অন্ধকারে ঝলমল করে উঠলো লখনৌ নগরী আর সুবা অওধ। রামচন্দ্রের আশীর্বাদধন্য আযোধ্যা যা কিনা অষ্টাদশ শতকের হিন্দুস্তানিতে অওধ। এসব নিয়ে কইতে বসিনি অবশ্য। আমি খানেওয়ালা আদমী। সিয়াসতি  বদবু (রাজনীতির দুর্গন্ধ) থেকে দূরে থাকাই ভাল।

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭

ঝগড়া

- আর ঝগড়া করবি?
- ঝগড়া আমি করলাম? এত বড় মিথ্যে আমার ওপর চাপালি? বাজে ছেলে, মিথ্যেবাদী তুই , প্রবঞ্চক , ঠগ্‌ …… ইয়ে
- তোর আর আমার তফাত কোথায় জানিস? রেগে গেলে তোর ভাষাটা বড্ড শুদ্ধ হয়ে যায় আর আমার টা……
- ভাল হচ্ছেনা কিন্তু, প্রচন্ড মাথা গরম হয়ে আছে, হাত চলে যাবে
- আমার ও পা চলবে তাহলে?
- কি? কি? তুই আমাকে ……

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

ভাল

- বাপুজির টিফিনকেকের ওপর চার চামচ পোর্ট ওয়াইন ঢেলে খেয়ে দেখেছিস? অমৃত। রন্ধ্রে রন্ধ্রে রস
- রস? রসের নামে ছাইপাঁশ খাবেন কেন স্যার?
- কেন রে? তুই বুঝি এসব চাখিসনি! ন্যাকামো হচ্ছে? মেয়ে বলে তুই এক্কেরে লবঙ্গলতিকা?
- নামানে সেরকম ঠিক….
- সত্যি করে বল দিকি

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১৬

পাঞ্জাবী

পেশাওয়ার ইস্টিশনে একগাদা বাঙালি রেলগাড়ি থেকে নামেনা। তাই আলী সায়েব যখন পেশাওয়ারে নামলেন গাড়ি থেকে, খেয়াল পড়ল তিনি পাঞ্জাবী পরে আসেননি। কাজেই তাঁকে নিতে আসা, পাঠান বন্ধুর-বন্ধু (কিম্বা বন্ধুর-বন্ধুর-বন্ধুর-বন্ধু। খাঁটি পাঠান বন্ধুর সম্পক্কে বন্ধুর পন্থায় বিশ্বাস করেনা বলেই লিখেছেন আলী সায়েব) তাঁকে চিনবেন কি করে, তাই নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। সেই দুশ্চিন্তার কথা শুনে পাঠান তাজ্জব – “পাঞ্জাবী দিয়ে বাঙালি চেনা যায়?” - আজ্ঞে ১৯২৭ সালের কথা কইচি। এখন হিন্দি-পাকি দুশমনিতে নিরুপায় হয়ে বাঙালি রেলগাড়ি চেপে পেশাওয়ার যেতে পারেনা। কিন্তু ৮০-৯০ বছর আগে পেটের টানে সেই নিরুপায় হয়েই আবার বাঙালি রেলগাড়ি চেপে পেশাওয়ার যেত। আলী সায়েব বলে গেছেন যে।