বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

ওরা

- ওরা যে কি হারে সংখ্যায় বাড়ছে বাবা... ভাবা যায় না ...
- কে আবার বাড়লো এই সাত সকালে? পোকা? আরশুলো?
- উফ্‌ , তোমাদের মত লোকের ইগনোরেন্সেই এই হাল হয়েছে
- আমি? আমি আবার কি করলুম রে? আমি তো কাগজ পড়ছি
- ধুত , ওই কাগজই পড়ো আর চা ই খাও। অবসর জীবন......
- এত মাথা গরম করিস না তো। বোস এখানে। আজ তোর আপিসও নেই, তাড়াও নেই
- মেজাজটাই খাট্টা হয়ে গেল বাবা...
- খাট্টা? টক বলা যায় না?
- বুঝছোনা বাবা, সব শব্দে সেই জোরটা নেই। ভাষার ছুৎমার্গ থেকে বেরোও এবারে। আর মেজাজ খারাপ করে দিওনা তো, কাগজ পড়ো। আমি চট করে জামা কাপড় ছেড়ে একটু বাজার যাই
- বোস না, আজ তো রবিবার
- পাঁঠার দোকানে লাইন প্রতি সেকেন্ডে কি হারে বাড়ছে সেটা খেয়াল আছে তোমার? তার ওপর এই উটকো পাবলিকটা। নির্ঘাত জঙ্গী টঙ্গী হবে।
- জঙ্গী? বলিস কি রে?
- প্রথমটা বুঝিনি জানো। পার্কের মাঠে দৌড়ের পর আমি একটা বেঞ্চে ১০ মিনিট বসি। পরশু দিন দেখি একটা লোক বসে। বয়স্ক, সাদা পাজামা পাঞ্জাবি, ওই পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বছর বয়স হবে, বেশ কাঁচা পাকা দাড়ি গোঁফ। চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা।
- সেটাই জঙ্গী? বোমা ছিল পকেটে?
- আঃ বাবা, ডাইল্যুট করো না তো, শুনতে ইচ্ছে না থাকে আমি চলে যাচ্ছি।
- আহা, চটিস কেন? বল বল। আমি আর কিছু বলছিনা।
- আমি পাশে বসতেই লোকটা এক গাল হেসে বললো ওম-শান্তি-শান্তি-শান্তি......
- ওম শান্তি বলা জঙ্গী? বজরং দল নাকি?
- বাবা ... প্লিজ ...
- আমি মুখে কুলুপ। বলে যা।
- আমি একটু দেঁতো হেসে উঠে এলাম...
- প্রশ্ন চলবে?
- চলতে পারে
- তার পর কি হলো?
- বলছি... গতকাল গিয়ে দেখি পাবলিক আবার বসে আছে। আমি তাকাইনি ভাল করে। কিন্তু বেঞ্চে বসতেই লোকটা আবার বলল লেট দ্য পিস বি উইথ ইউ।
- জেডাই নাইট নয় তো? স্টার ওয়ারে ...... না না, ওরকম করে তাকাস না। তুইও স্টার ওয়ার ফ্যান। জানি। তোকে ৬ বছর বয়সে দেখতে নিয়ে গেছিলাম।
- তুমি একটা ইয়ে বাবা...
- আগে বাঢ়ো জওয়ান
- আজও গিয়ে দেখি শয়তানটা বসে আছে। তখনো অবশ্য বুঝিনি লোকটা ইয়ে
- ঘটনাটা কি ঘটল?
- হারামজাদা আজ এক গাল হেসে বলে কিনা আস-সালাম আলাইকুম... ভেবে দেখো, লোকটা আসলে কি সেটা দুদিন বুঝিনি, এই আমাদের এলাকায়, পাড়ার মধ্যে ঢুকে বসে আছে। ডেঞ্জারাস ...
- আমি তো ডেঞ্জার কিছু দেখলুম না রে
- দেখলে না? ব্যাটা আসলে কি বুঝলে না? পাকিস্তানের স্পাই। আই-এস ও হতে পারে। কিম্বা তালিবান। ঘরশত্রু বিভিষন তো বটেই। ব্যাটা মির্জাফরের বংশ
- কিন্তু কথা থেকে ধরতে হলে, তোর “খাট্টা” শুনে তোকেও তো ইউপি কিম্বা বিহারি ভাবা যেতে পারে
- “খাট্টা” আর “আস-সালাম আলাইকুম” এক হলো তোমার কাছে? এই তোমাদের ইগনোরেন্সেই এরা এতটা বাড় বেড়েছে।
- প্রথম দিন লোকটা কি বলেছিল?
- বলল “ওম শান্তি শান্তি শান্তি”, আর গত কাল বলেছিল  লেট দ্য পিস বি উইথ ইউ।
- দুটোর মানে কি কাছাকাছি?
- প্রায় একই মানে। একটা আমাদের সংস্কৃত, অন্যটা ইংরিজি
- আর আজ যেটা বলল?
- “আস-সালাম আলাইকুম”? কে জানে? দাঙ্গা-হাঙ্গামা - খুন খারাপি - জেহাদ - গাজী টাজী কিছু একটা হবে।
- অনেক ছোটো বেলায় শোনা যদিও , তবুও মনে আছে, আস-সালাম-আলাইকুম মানে হল তোমাদের শান্তি লাভ হোক।
- মানে?

- মানে কিছুই না, ভদ্রলোক তোকে তিন দিন তিন ভাষায় একই কথা বলেছেন। তুই শেষেরটার মানে জানতিস না বলে ওনাকে জঙ্গী......... ওই দেখো...... চললি কোথায়? আরে.........।

২টি মন্তব্য :

  1. অজ্ঞতাই আমাদের যত অশান্তির মূল কারন। একদম সময়োপযোগী লেখা। দারুন লাগল।

    উত্তরমুছুন