বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

স্যাটেলাইট

- কিন্তু স্যার শুধু নাম দেখেই আমাকে নাকচ করাটা কি ঠিক?
- “নিবারন পোল্ল্যেনাম নিয়ে অরনী সেনের সহকারী? তার ওপর…… তার ওপর আয়নায় নিজেকে
- আজ্ঞে আমি তো স্যার সহকারী হবো। টাক, ঝুপো গোঁফ, পায়ে চটি, ৫৮ বছর বয়স, এসব নিয়ে তো আগেও
- আপনি কি উপন্যাস লেখেন? আপনার ছদ্মনামটি কি নিবারন বাবু?

- আজ্ঞে আমার বাড়ি কিন্তু গড়পারের কাছেই স্যার
- এটা কোনো কোয়ালিফিকেশন হলো? আপনি লিখেছেন আপনার শেষ ডেজিগনেশন ছিল সাব ইন্সপেক্টর, তার আগে?
- আজ্ঞে সেই কনস্টেবল থেকে শুরু স্যার। এর বেশী এগোতে পারিনি আর।
- খইনি টিপেই পুলিশের চাকরি জীবন শেষ করে দিলেন তাহলে?
- আজ্ঞে স্যার খইনি আমি খাইনা
- খাইনা বললেই হলো?
- না স্যার। বহু বছর খইনি খেলে  নিচের ঠোঁটের ওপরে একটা কালচে দাগ হয়।
- তাই বুঝি? আর কি কি খেলে কি হয়? আমি কি কি খাই বলুন তো?
- আপনি গোল্ড ফ্লেক খান স্যার। গোটা প্যাকেট কেনেন। আর হুইস্কি খেতে ভালবাসেন। কাজের মাঝে কফি খান।, দুধ চিনি ছাড়া।
- ইয়ে মানে...... আপনি এসব ?
- দোষ নেবেন না স্যার, আপনার টেবিলের ওপরেই গোল্ড ফ্লেকের নতুন প্যাকেটের সিল ছেঁড়া টুকরো পড়ে আছে
- ওই টুকু প্লাস্টিক আর কাগজ দেখে বুঝে নিলেন? চোখ বটে আপনার
- আজ্ঞে স্যার এত বছর ধরে বিটের ডিউটিতে বেশীর ভাগ সময় পান-বিড়ির দোকানের আসেপাশেই কাটাতাম কিনা।
- আর কফি? হুইস্কি?
- কফিটা বলা সোজা, আপনার টেবিলের ওপরে এঁটো কফির কাপ। ভেতরে কালো কফির তলানি। লাল চায়ে অতটা কালো হয়না। চেয়ারে বসার সময় চোখে পড়ল।
- হুইস্কি?
- ওটা স্যার আন্দাজ। তবে আপনার বাড়ির লোক হুইস্কি খাওয়া পছন্দ করে না বোধহয়।
- ইয়ার্কি হচ্ছে এটা? কে আপনি? আগে থেকে খবর নিয়ে এসেছেন। শালা টিকটিকি
- এই দেখুন স্যার, রেগে যাচ্ছেন কেন? আপনার আপিসের বাইরে দেখলুম কয়েকটা ব্যালেন্টাইনের কাগজের বাক্স। ওই হুইস্কির তো চ্যাপটা বোতল, লুকিয়ে ব্যাগে রাখতে সুবিধে যদি প্যাকেট ফেলে দেন।
- সত্যি বলছেন?
- মা কালির দিব্যি স্যার।
- আচ্ছা বলুন তো অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত কাকে বলে, শার্লক হোমস পড়েছেন?
- আমি স্যার ক্লাস টুয়েলভ। তবে ব্যোমকেশ আর ফেলুদা পড়েছি কিছু।
- হুঁ। গন্ডগোল। বিস্তর গন্ডগোল।
- কিসের স্যার।
- আপনাকে নিয়ে সমস্যা হলো। এই ঝ্যালঝ্যালে কটে যাওয়া প্যান্ট, চপ্পল আর কোঁচকানো শার্ট ঝুলিয়ে পরে আপনি গোয়েন্দা অরনী সেনের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটবেন
- আজ্ঞে স্যার আমি নাহয় তফাতেই চলব। এসব লাইনে লোকজন একটু আড়ালে আবডালে কাজ করাই ভাল
- গোয়েন্দা কেন আড়ালে থাকবে? ভাবুন তো, ফেলুদা যদি পাঁচফুটী ভুঁড়িওয়ালা টেকো একটা লোক হতো? বই বিক্রি হতো।
- তা হতোনা, তবে কিনা স্যার ফেলুদার অনেক সুবিধে হতো। কেউ নজরই করত না।
- হুঁ, একটু দাঁড়ান। একটা মেসেজ করে নিই জরুরি।
*******
- আজ্ঞে স্যার ম্যাডাম কে বলতে পারেন আমি নেহাতই আপনার মোটা কাজের লোক, কিম্বা চাকর
- কে ? কে? কে আপনি? ক্কি ক্কি ক্কি করে জানলেন আমি ওকে মেসেজ করছি?
- আজ্ঞে স্যার আমার ছবি তুলেও পাঠালেন লুকিয়ে। আলো কম বলে ফোকাস করার জন্যে ফোনের ক্যামেরার পাশের ছোট্ট আলোটা একবার জ্বলে উঠলো। আর ছবি পাঠানোর পর মা জননীর উত্তরে আপনি একটু হাসলেন।
- ইয়ে , মানে, সেরকম না, ও ই বলল
- কি স্যার? হুঁকোমুখো?
- না রামগড়ুর
- ও নিয়ে ভাববেন না। নামে কি এসে যায়?
- হুঁ । সমস্যা । কি যে করি...
- বিয়ের পর মিটে যাবে স্যার? তখন চাল তেল আটা মাছ। পরে বাচ্ছার ন্যাপি, ইশকুল ,পড়াশোনা।
- বিয়ে হয়নি বুঝলেন কি করে?
- আবার সেই আপনার টেবিল স্যার। আপনার ছোটোবেলায় বাবা মায়ের সঙ্গে আপনার ছবি। বিয়ের পর ওটা বদলে যাবার কথা
- আপনাকে নিয়ে কি করি মিস্টার পোল্ল্যে?
- রেখে নিন স্যার আমাকে। যা বলবেন করে দেবো
- লোকের কাছে বলব কি? আমি গোয়েন্দা অরনী সেন , আর এটি আমার সাগরেদ নিবারন পোল্ল্যে?
- আজ্ঞে স্যার গোয়েন্দাদের যে সমাজে আনাগোনা, তাতে নিবারন পোল্ল্যের থাকার কথা নয়। আপনি বলবেন , আপনি গোয়েন্দা অরনী সেন, আর এটি আপনার স্যাটেলাইট।
- স্যাটেলাইট?

- একদম ঠিক স্যার। স্যাটেলাইট। আপনি আছেন বলেই না আমি থাকব। গোয়েন্দা ছাড়া স্যাটেলাইট হয় নাকি স্যার।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন