বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

পাহাড় ও সমুদ্র

- না শুভেন্দু, কখনোই নয়। সমুদ্র বড় একঘেঁয়ে, এক বেলার পর থেকেই আর কিছু.....
- কল্পনা কল্পনা, সমুদ্র কল্পনাকে উসকে দেয় মিত্রা, তুমি ভেবে দেখ, উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ অনেক বেশী আবেগ ও কল্পনাপ্রবন।
- আর পাহাড়ের মানুষ? অন্তর্মূখি, কষ্টসহিষ্ণু, হাসি মুখ
- না মিত্রা, সমুদ্রই হোক এ যাত্রা। পাহাড় তো অনেক হয়েছে। আর কেমন জানি সব পাহাড়ই আমার....
- এক লাগে? মন চাই বুঝলেমন। এই এত গুলো বছর সংসার করেও মনের নাগাল পাইনা তোমারনিজের কাজ আর জগৎ নিয়েই......
- কার জন্যে সে সববলো? তুমি আর বাবান। এ ছাড়া কিছুর কথা ভেবেছি? আজ বাবান বড় হয়েছেচাকরি করছে বাইরে, আজও কি আমাকে কাজের খোঁটা দিয়ে যাবে?
- সারা দিন মুখে চা আর চারমিনার। আর বিকেলে বুড়োদের আড্ডা। আমি কোথায় শুভেন্দু? আছি? ছিলাম কোনো দিন? পাহাড়।  ব্যাস। বলে দিলাম।
- সমুদ্র নয়? মিতু, ভেবে দেখো, দিগন্তবিস্তৃত জলের ওপাশে টুপুস করে হাঁসের ডিমের লাল টুকটুকে কুসুমের মত সূর্য্য ডুবছে। বালির ওপর বসে থাকা, হাতে ওই বিলিতি ককটেল
- থাক আর ককটেল খেয়ে দরকার নেই, অম্বলে তিনদিন কিচ্ছুটি খেতে পারবেনা। আর বালিতে বসা? ম্যাগো, ওই বালি মাখা কাপড় আমাকেই কাচতে হবে। বালি যেতেই চায় না।
- সমুদ্র না মিতু?
- এক্কেবারে না। নো।
- বেশ, তাহলে একটা প্রমিস করো, চাদরের তলা থেকে একটি বার বেরিয়ে বড় আলোটা নিভিয়ে আসবে।
- করলুম। প্রমিস।

শুভেন্দু বাবু বিছানার পাশে রাখা টেবিল ল্যাম্প জ্বাললেন। মিত্রা ঘরের বড় আলো নিভিয়ে এসে গুটি সুটি মেরে চাদরের তলায় ঢুকলো। বালিসের পাশে রাখা পূজা সংখ্যা “ভ্রমন” পত্রিকাবুড়িকে আজ পাহাড়ের ভ্রমন কাহিনি পড়ে শোনাতে হবে। বড্ড জেদ ধরেছে। কাল নাহয় সমুদ্র হবে।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন