বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

চাঙ্গায়নী

- তাহলে ডক্টর এপিসাইলিস, আপনি বলছেন এটাই সেই সত্য, যা আমাদের স্থবীর মৃতপ্রায় গ্রহের মেলারিস জাতীকে বাঁচাতে পারে
- আমি নিশ্চিত ভাবে বলছি স্যার, গত ১টা বছর আমি ওই নীলচে সবুজ গ্রহে এমনি এমনি কাটিয়ে আসিনি
- কিন্তু আপনার রিপোর্টে তো লিখেছেন ওখানকার সবচেয়ে উন্নত জীবেরাও নাকি এখনো সেই ইলেকট্রনিক্স যুগেই পড়ে আছে
- ঠিকই স্যার, কিন্তু ভেবে দেখুন, ওদের হিসেবে মাত্র ১০ হাজার বছরে ওরা কি অভাবনিয় উন্নতি করতে পেরেছে, আর তার কারন, প্রতি হপ্তায় ওরা নতুন উদ্যম পায় বাঁচার। সাত দিনে একদিন ওরা ছুটি কাটায় ওখানে
- সেটাই কি কারন ডক্টর এপিসাইলিস? ছুটি আমরাও দিই। কিন্তু উদ্যম কি আসে? আরো ঝিমিয়ে পড়ে সবাই
- আজ্ঞে আপনি ঠিকই বলেছেন।।তবে একটা বড় তফাত আছে। আমাদের চামড়ায় সবুজ ক্লোরোফিল থাকার কারনে আমরা খাই শুধু জল, আর খিদে পেলে রোদে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে আসি।
- হ্যাঁ সেটাই তো স্বাভাবিক
- কিন্তু স্যার ওদের ওখানে অমন নয়। ওরা এটা পারে না। আর যেটা আমার আশ্চর্য্য লেগেছে স্যার, সেটা হল একটা গন্ধ। এমন অপার্থীব অলৌকিক গন্ধ আমি আমার সাড়ে ছ হাজার বছরের জীবনে পাইনি
- গন্ধ? মানে? কি গন্ধ?
- আমার গবেষনায় এইটাই উঠে এসেছে স্যার, সপ্তাহান্তে ওই গন্ধই ওদের চাঙ্গা করে তোলে, পাগল করে দেয়, সামনের দিন গুলোতে প্রানপাত করে কাজ করতে উৎসাহী করে।
- বলছ? এরকমও হয়? গন্ধ দিয়ে কাজের উৎসাহ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার। আর সেই গন্ধ তৈরির ফরমুলা ও তার জন্য যাবতীয় উপকরন আমি পৃথিবী থেকে সংগ্রহ করে এনেছি।
- বা: কিন্তু সে সব উপকরন এখানে পাওয়া যাবেনা?
- না স্যার, তার অনেকগুলোই জৈব উপকরন। আমি ট্রিপিন্ডাকিন্ডারুপিসারেটর যন্ত্রে সেগুলো সংরক্ষন করেছি। আগামী ৫ হাজার বছর উপকরন অক্ষত থাকবে।
- যদি.....  যদি পারো ডক্টর এপিসাইলিস, আমাদের মৃতপ্রায়, নির্জীব প্রজাতীকে বাঁচাতে....তোমাকে....তোমাকে...
- হুজুর, আমি তাহলে আসি, সুগন্ধ প্রস্তুতি শুরু করি

চারিদিকে ডক্টর এপিসাইলিসের বিস্বস্ত চারজন সহকারীকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে এ ফর্মুলা কাজ করতে শুরু করেছে। ওদের চোখ ধ্বক ধ্বক করে জ্বলছে। বিশাল বড় পাত্রে উপকরন নাড়া হচ্ছে। ডক্টর এপিসাইলিস শিখিয়ে চলেছেন.....

- বিশেষ এক তরল নির্যাস ছাড়া হবেনা। একে বলে সর্ষের তেলআর এই লালচে প্রানীজ বস্তুকে বলে পাঁঠার মাংস। সাদা সাদা গুলো চর্বি। পাঁঠার মাংসয় একটু চর্বি না থাকলে কিন্তু গন্ধ সঠিক হবেনা। খেয়াল রাখতে হবে, পেঁয়াজরসুন, আদা, লঙ্কা, ভিনিগার, হলুদ, জিরে ধনের পরিমানে গন্ডগোল যেন না হয়। আর এই যে দেখছ, আগুনের ওপর হাঁড়িতে চড়িয়ে নাড়া, একে বলে কষা। যত কষবে তত ভাল সুগন্ধ। ওই বস্তু গুলো গরম মশলা, একটা পেস্ট করে রাখো। গরম মশলা একদম শেষে দিতে হয়ও গ্রহে প্রতি রবিবার পাড়ায় পাড়ায় এই চাঙ্গায়নী সুগন্ধ তৈরি হয়ে চলেছে বাড়ি বাড়ি।

কোন মন্তব্য নেই :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন