সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

৩ টি পরমানু গল্প

২০৭৬
আজ্ঞে হ্যাঁ, ২০৭৬ সালে পৌঁছে ভারত সুপার পাওয়ার। পৃথিবীর একচ্ছত্র সুপার পাওয়ার। ভারতের ১৬৯ কোটি মানুষের হাতে অঢেল অঢেল অঢেল সম্পদ, এবং তার পরিমাপ সম্ভব নয়। এহেন ভারতের পূব প্রান্তের মহানগর কলকাতার এক মহল্লার ওপরে হেলিকপ্টারে চড়ে যাবার সময় দুই পড়শির দেখা। একে শীত কাল, তায় কাকভোর।।কলকাতার মিঠে মিঠে ঠান্ডায় কম্বলের তলা থেকে বেরোতেই মন চায়না। তবু গিন্নির আবদারে বেরোতেই হয়েছে ঋদ্ধিবাবুকে। আর হাল ফ্যাশনের মহিন্দ্রা জেট হেলিকপ্টারঅ্যাপার্টমেন্টের ২৩০ তলা ছাদ থেকে ওপরে উঠতেই আকাশে দেখা প্রতিবেশী ডক্টর মুখার্জির সঙ্গে।  তিনি রেডিওতে আলাপ জুড়লেন

- ও ঋদ্ধি, বলি এই রোববার সাত সকালে চললে কই?
- এই একটু.....
- বায়ু সেবন? তাজপুর চললে? সে তো মিনিট পনেরোর ধাক্কা, তার ওপর কুয়াশা
- আজ্ঞে না মুখার্জিদা, এই কাছেই যাবো.....  চলি কেমন... পরে কথা হবে..
- দাঁড়াও দাঁড়াও ভায়া, ব্যাপার কি বলো তো? এই কাল সন্ধ্যে বেলা ক্যানিং মাছের বাজারে মাছ কিনছিলে কত খোশ মেজাজে আর....
- না মানে....
- কি আর বলব ভায়া, বাবার কাছে শুনেছি, ৫০-৬০ বছর আগে নাকি লোকে মাছ খেতো ক্যালেন্ডার দেখে। এমনি তার দাম। আর এখন?
- তা বটে, এই তো কাল তিন কিলোর কালবোসের সঙ্গে দিলো ৫০০ গ্রাম চিংড়ি ফ্রি, আর তাতেই....
- তাতেই কি?
- আর বলবেন না দাদা, আমি এগোই, দেরি হয়ে যাচ্ছে, যাবো কাটোয়া
- কাটোয়া?
- দাদা, সারা রাত বসে eBay তে বিড করে গেছি, দু চোখের পাতা এক করতে পারিনি।
- কিসের বিড করেছ ভায়া? কি কিনলে?
- তিনটে ঝিঙে.... হাজার পনের পড়ল..... ভাবতে পারেনএত সস্তায়? ঝিঙে-চিংড়ি দিয়ে রবিবার একেবারে.....

--------*******-------

মধু চক্র
- দেখুন, খবর না পেয়ে তো আসিনি, কাজেই বাধা দিয়ে লাভ নেই। পুলিসকে পুলিসের কাজ করতে দিন। ঢুকতে দিন।
- কিন্তু খবরটা কি? ওয়ারেন্ট আছে?
- আছে। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন। আমরা জানতে পেরেছি এই বাড়িতে অসামাজিক কাজ হয়।
- অসামাজিক কাজ? কি বলছেন অফিসার? আমি রিটায়ার্ড মানুষ, বিপত্নিক। এই বাড়িতে ভাড়া.....
- ভাড়াই তো খাটাচ্ছেন। সেই তথ্যই আছে আমাদের কাছে।
- বিশ্বাস করুন অফিসার, কোথাও মস্ত বড় ভুল হচ্ছে
- বোধহয় না। এ বাড়ির নম্বর নম্বর  ১৪/৩?
- আজ্ঞে হ্যাঁ
- এটা নীলমনি হালদার লেন?
- আজ্ঞে সেটাও ঠিক।
- তাহলে কোনো ভুল নেই। এ বাড়িতে লুকিয়ে দেহব্যাবসা চলে
- কি বলছেন অফিসার... আমি তো কিছুই....
- ন্যাকা সাজছেন? এক থাবড়ায় ন্যাকামো ঘুচিয়ে দেবো। নাম কি আপনার?
- আমার?
- দেবো য়্যাক.... হ্যাঁ আপনার
- ইয়ে মানে  মধু.. সবাই চেনে স্যার জিজ্ঞেস করে দেখুন....অনেক দিনের বাসিন্দে স্যার এপাড়ার.... মানে স্যার মোড়ের মাথায় মধু চক্রর বাড়ি বললেই সবাই দেখিয়ে দেবে, সবাই চেনে...
- মানে??
- মধু চক্র স্যার, মধুসুদন চক্র। আমার নাম।

--------*******-------

জার্মান শেফার্ড
- মানে? আপনার স্বামী সব সময় ভাবেন উনি মানুষ নন?
- সব সময় ডক্টর সেন। উনি সব সময় মনে করেন উনি মানুষ নন, উনি....  উনি...
- উনি?
- উনি একটা জার্মান শেফার্ড
- জার্মান শেফার্ড? মানে অ্যালসেশিয়ান? কুকুর?
- ঠিক তাই।
- দেখুন মিসেস মিত্র, আপনাদের কেসটা একটু নয় অনেকটাই আন কমন। মানে এরকম কেস চট করে....
- দোহাই ডক্টর সেন, আপনি কলকাতার সবচেয়ে নামকরা সাইক্রিয়াটিস্টদের মধ্যে একজন। অনেক আশা নিয়ে.....
- তা বুঝতেই পারছি, আর আমার কৌতুহলও হচ্ছে ষোলো আনা...
- প্লিজ....  ডক্টর...
- ওনাকে একবার এখানে আনা যায় মিসেস মিত্র?
- কেন যায় না? আপনি দেখতে চান? উনি সঙ্গেই আছেন।আমি নিয়ে এসেছি। বাইরে বসিয়ে রেখে এসেছি।
- ওমা সেকি? শিগগিরি ডাকুন 
- দাঁড়ান, আমি নিয়ে আসছি ওনাকে...

মিসেস মিত্রডাক্তার সেনের চেম্বারের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলেন। সঙ্গে বিশাল চেহারার ছেয়ে রঙের এক জার্মান শেফার্ড।

৭টি মন্তব্য :

  1. তিমটেই দুর্দান্ত লাগল। সেরা তো এসবের তেমনভাবে কিছু হয়না, তবে কেউ একান্ত জোর করলে বলব প্রথমটা।

    উত্তরমুছুন
  2. তিনটেতে তিনরকম বিষয়, তিন রকমের ঝটকা! লেয়ারগুলো অসাধারণ! অনেকটা ওই সুকুমার রায়ের ছড়াগুলোর মতন, একেক দিক থেকে একেকরকম মানে বেরোচ্ছে!
    দুর্দান্ত!

    উত্তরমুছুন
  3. তিনটি স্বাদের তিনরকম গল্প। কোনটা একে অপরকে ছাপিয়ে যায় নি। তবে ভালোলাগার কথা বললে আমি বলব প্রথম গল্পের কথা। সোমনাথকে অন্য ভাবে পেলাম।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আমিও আগে লিখিনি এরকম। এই প্রথম একটু চেষ্টা করলুম

      মুছুন
  4. আমার শেষেরটা বেশি ভালো লাগলো।

    উত্তরমুছুন